web-hosting-company-hostingreviews.com.bd

শুধু কম দাম দেখে হোস্টিং কিনে প্রতারিত হবেন না! আগে বিস্তারিত জানুন তারপর কিনুন !!

সাধারনত,  যারা নতুন ওয়েবসাইট বানাতে চায়, তারা প্রথমে যে দুটি সমস্যায় পড়ে তা হলো- প্রথমত, ডোমেইন কিভাবে এবং কোথা হতে কিনবো? দ্বিতীয়ত, কোন হোস্টিং কোম্পানির কাছ থেকে ভালো মানের  হোস্টিং সার্ভিস পাওয়া যাবে? মোটামুটি ভাবে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারা গেলেও হোস্টিং কোম্পানি সার্ভিসের বিষয়ে র‍য়ে যায় নানান ধরনের প্রশ্ন! যেমন- ১) কারা ভালো প্রভাইডার? ২) কম খরচে কিভাবে ভালো মানের হোস্টিং পাওয়া যায়? ৩) কাদের কাছে থেকে হোস্টিং কিনলে ভালো সাপোর্ট পাওয়া যাবে? ৪) দেশীয় না বিদেশী হোস্টিং কোম্পানির কাছ থেকে সার্ভিস নিলে ভালো হবে?  ইত্যাদি ।

এছাড়া বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানি গুলো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে সামনে রেখে কম দামে হোস্টিং কেনার অফার দিয়ে থাকে। আবার এর মধ্যে অনেক হোস্টিং কোম্পানি রয়েছে যারা কিনা হোস্টিং প্যাকেজ কিনার আগে নিজেদেরকে সেরা দাবী করলেও পরবর্তীতে দেখা যায় তাদের সার্ভিস তুল  নামূলক ভাবে অনেক খারাপ। বিশেষ করে ব্যান্ডউইথ, আপটাইম, লোডিং স্পিড, কাস্টমার সাপোর্ট ইত্যাদি বিষয় গুলোর ক্ষেত্রে সর্বদা সমস্যা লেগেই থাকে। তাই এসব সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে হোস্টিং কোম্পানীর সার্ভিসের মান যাচাই বাছাই না করে শুধু আকর্ষণীয় ও কম দাম প্যাকেজের বিজ্ঞাপন দেখে হোস্টিং কিনে প্রতারিত হবেন না।

এখন তাহলে কি করা উচিত? কিভাবে আপনি একটি সীমিত দামের মধ্যে ভালো মানের হোস্টিং সার্ভিস খুঁজে পাবেন বা কিনবেন? ঠিক আছে চিন্তার কোন কারণ নেই। আশাকরি নিচের আলোচনা গুলো পড়লেই আপনার জন্য একটি ভালো মানের ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি বেছে নেওয়া অনেক সহজ হবে।

চলুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক……………

১) ইউজার কন্ট্রোল প্যানেলঃ

কন্ট্রোল প্যানেল হলো অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিচার। এটির মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার পছন্দের ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তাই এমন একটি হোস্টিং কোম্পানি নির্বাচন করুন যারা মূলত সার্ভিস প্রদান করে cPanel এবং Integrated Client Area থেকে যেটা অনেক Lightweight, User-Friendly এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য।

২) এক ক্লিকে ওয়েব অ্যাপ ইন্সটল ঃ

একটি ভালো মানের হোস্টিং কোম্পানি অবশ্যই পপুলার প্রোগ্রামগুলোর ( যেমন WordPress, Magento, Joomla and Scripts) জন্য 1 Click Auto Installer অফার করবে। তাই চেক করুন আপনার হোস্টিং কোম্পানি এ ধরনের সহজ 1 Click ইন্সটলার অফার করছে কী না। যদি 1 Click ইন্সটলার না করে তাহলে আপনি অন্য হোস্টিং কোম্পানি নির্বাচন করুন।

উদাহরণস্বরূপ- Softaculas App Installer যেটা হতে ৪৪৮+ প্লাস Web App যেমন WordPress, Magento, Joomla and Scripts, ১১১৫+ প্লাস PHP Classes অ্যালাউ করে যেগুলো কয়েকটি ক্লিক এর মাধ্যমে সহজে Install করা যায়।

৩) আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ, ইমেইল, সাবডোমেইন সহ সমস্ত প্লানঃ

সাধারনত আমরা সবাই কোন ধরনের বাঁধা ছাড়াই হোস্টিং কোম্পানি থেকে আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ, বিজিনেস ইমেইল, সাবডোমেইন পেতে পছন্দ করি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যখন বিরক্তিকর বাঁধা এবং লিমিটেশন থাকে তখন সেটা আমাদের জন্য অগ্রহণ যোগ্য হয়ে দারায় । তাই এমন হোস্টিং কোম্পানি সিলেক্ট করুন যাদের প্রত্যেক প্যাকেজে আপনি সে ধরনের বাঁধা ছাড়াই আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ, বিজিনেস ইমেইল, সাবডোমেইন ও  আনলিমিটেড ডাটাবেজ তৈরি করতে পারবেন। সুতরাং আপনি কেন লিমিটেড হোস্টিং কোম্পানির সার্ভিস ব্যবহার করে আপনার ক্রিয়েটিভিটি কে সীমাবদ্ধ রাখবেন।

৪) সার্ভার আপটাইম গ্যারান্টিঃ

একটি ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড ঠিক রাখার ক্ষেত্রে ৯৯.৯৯ % সার্ভার আপটাইম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এমন হোস্টিং কোম্পানি সিলেক্ট করুন যারা আপনাকে সর্বদা ৯৯.৯৯ % সার্ভার আপটাইম গ্যারান্টি প্রদান করবে।

 

12-Tips-for-Choosing-Best-Web-Hosting-Services-hostingreviews.com.bd
Tips for Choosing Web Hosting Service

৫) লাইফটাইম ফ্রি এসএসএলঃ

সাধারণত, প্রতি বছর Godaddy – $৫৯.৯৯ ডলার চার্জ করে DV, OV and EV SSL Certificates এর জন্য  এবং Hostgator $১৯.৯৯ ডলার চার্জ করে একটা কোমোডো এসএসএল এর জন্য। (সময় ভেদে কম বেশি হতে পারে)। তাই অতিরিক্ত টাকা খরচ না করে এমন হোস্টিং কোম্পানি বাছাই করুন যারা কিনা ডোমেইন কেনার সাথে সাথে বিনা মূল্যে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য লাইফটাইম SSL ফ্রি দেয়।

৬) ইজি ফাইল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম

একটি ভালো মানের হোস্টিং সার্ভারে ওয়েব বেসড ইজি ফাইল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (Web-based Easy File Management System) রয়েছে যা ওয়েবসাইটকে অর্গানাইজ রাখার পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইটকে জাঙ্ক মুক্ত রাখবে। যার ফলে আপনি সহজেই ফাইলগুলি কপি, স্থানান্তর, কম্প্রেস এবং আন কম্প্রেস করতে পারবেন।

৭) পিওর এসএসডি হোস্টিং  অ্যান্ড স্পিড টেকনোলজিস

মূলত পিওর এসএসডি হোস্টিং (Pure SSD Hosting) এ আপনি পাবেন ২০ গুণ File Management Experience যা আপনার ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বেশিরভাগ হোস্টিং কোম্পানি গুলো এসএসডি হোস্টিং (SSD Hosting) সার্ভিস প্রদান করে বলে থাকলেও তাদের অধিকাংশই পিওর এসএসডি হোস্টিং (Pure SSD Hosting) প্যাকেজ না। তারা সাধারণত হাইব্রিড এক্সালেরেটেড এসএসডি হোস্টিং (Hybrid Accelerated SSD Hosting) সার্ভিস প্রদান করে থাকে, যা তাদের সার্ভারে এসএসডি ড্রাইভ ব্যবহারের মাধ্যমে কেচ ডাটা (Cache Data) সেভ রাখে এবং পরবর্তীতে তারা Pure SSD Hosting সার্ভিস এর জন্য অধিক চার্জ নিয়ে থাকে। তাই যেসব হোস্টিং কোম্পানি এই ধরনের চিটিং সার্ভিস দেয় তাদের কে পরিহার করে একটি ভালো মানের হোস্টিং কোম্পানি বাছাই করুন।

৮) সার্ভার আপগ্রেড সুবিধাঃ

হোস্টিং কোম্পানি বেছে নেওয়ার সময় তাদের সার্ভার আপগ্রেড অপশনস আছে কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হোন। কারণ প্রাইমারি লেভেলের সাইটের জন্য শেয়ারড হোস্টিং খুব ভালো কিন্তু যখন আপনার সাইট গ্রোথ হতে থাকবে তখন এটিকে কোনো ডেডিকেটেড সার্ভার অথবা ভিপিএস সার্ভারে আপগ্রেড করতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি এই অপশন থেকে থাকে তাহলে আপনি সহজেই এক প্যাকেজ থেকে অন্য প্যাকেজে মাইগ্রেট করতে পারবেন। যার ফলে যে কোন সময় স্কেল আপ এর মাধ্যমে আপনার বিজিনেস গ্রো করতে পারবেন।

৯) ২৪/৭ ফ্রেন্ডলি কাস্টমার সাপোর্টঃ

প্রত্যেক হোস্টিং কোম্পানি গুলোই তাদের কাস্টমারদের সঠিক ও উন্নতমানের সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে নিজস্ব সাপোর্ট টিম ব্যাবহার করে। যার মাধ্যমে আপনি যে কোন সময় অর্থাৎ দিনে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৭ দিন ও বছরে ৩৬৫ দিন, টিকিট অ্যান্ড অনলাইন নলেজ বেস অথবা ইমেইলের মাধ্যমে সর্বদা টেকনিক্যাল হেল্প এবং সাপোর্ট পাবেন। তাই এমন হোস্টিং কোম্পানি সিলেক্ট করুন যারা কিনা ডেডিকেটেড সাপোর্ট এজেন্ট (Dedicated Support Agents) লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে সর্বদা প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের পাশাপাশি যাবতীয় হোস্টিং সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করে থাকে।

১০) ব্যাকআপ অ্যান্ড ইজি রিস্টোরেশনঃ

সফটওয়্যার জনিত কারনে হোক অথবা কোন মিসটেকের কারনে হোক, যে কোন সময় আপনার ওয়েবসাইট টি ক্রাশ করতে পারে কিংবা সব ডাটা হ্যাক হয়ে যেতেও পারে। এজন্য প্রয়োজন ডাটা ব্যাকআপ অ্যান্ড ইজি রিস্টোরেশন অপশন। যা একটি ওয়েবসাইটের জন্য অপরিহার্য। তাই এমন হোস্টিং কোম্পানি সিলেক্ট করুন যারা কিনা ফ্রিতে এবং ডেইলি বেসিসে ফুল ব্যাকআপ অফার করে থাকে।

১১) মানি ব্যাক গ্যারান্টিঃ

বেশির ভাগ হোস্টিং কোম্পানি গুলো কম পক্ষে হলেও ৩০ দিন মানি ব্যাক গ্যারান্টি দেওয়ার পাশাপাশি ১৫ দিন ফ্রি ট্রায়াল পিরিয়ড দিয়ে থাকে। তাই এসব হোস্টিং সার্ভিস নেওয়ার পরে আপনি যদি তাদের সার্ভিস পছন্দ না করেন অথবা ট্রায়াল পিরিয়ডের পর আপনি যদি হোস্টিং ক্যান্সেল করেন তাহলে তারা ফুল মানি ব্যাক দেবে; নাকি ক্যান্সিলেশন ফি রেখে দিবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন। সুতরাং এমন একটি হোস্টিং কোম্পানি বাছাই করুন যেটি কিনা কোনো ক্যান্সিলেশন ফি ছাড়াই 100% মানি ব্যাক গ্যারান্টি অফার করে।

১২) কাস্টমার রিভিউস অ্যান্ড রিকমেন্ডেশনঃ

একটি হোস্টিং কোম্পানি কেমন সার্ভিস দিচ্ছে সেটা তাদের কাস্টমারদের দেওয়া রিভিউস অ্যান্ড রিকমেন্ডেশন দেখে অনেকটা বোঝা যায়। তাই কোন হোস্টিং সার্ভিস কেনার আগের অবশ্যই সেই হোস্টিং কোম্পানির কাস্টমারদের রিভিউস অ্যান্ড রিকমেন্ডেশন গুলো এক নজরে দেখে নিন। এতে করে পূর্বে যারা ঐ সব হোস্টিং কোম্পানির সার্ভিস ব্যাবহার করেছে সে সম্পর্কে খারাপ-ভালো উভয় মতামত ই পাবেন। যা আপনাকে সঠিক ও ভালো মানের হোস্টিং কোম্পানি যাচাই করতে সাহায্য করবে।

পরিশেষে,

উপরোক্ত প্রয়োজনীয় ফিচার গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-বুঝে নিলে পরবর্তীতে হোস্টিং কোম্পানি বাছাই ও তাদের সার্ভিস কিনতে নিয়ে আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না বলে আশাবাদ ব্যাক্ত রাখি।

পাশাপাশি লেখা গুলো পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না। আপনার সুচিন্তিত মতামত আমাদের একান্ত কাম্য। তাই এই বিষয়ে আপনার যদি কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। আমরা আনন্দের সহিত আপনার মতামত গুলো পর্যালোচনা করে রেপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবো।

 

Always do your best. What you plant now, you will harvest later.

–Og Mandino

 

You May Also Like